Akhandamandaleshwar Sree Sree Swami Swarupananda Paramahansadev

Welcome to Swarup-Sadhan

Samabeta Upasana| Akhanda Sanhita | Swarupananda Sangeet

A few words about our great Gurudev Akhandamandaleshwar Sree Sree Swami Swarupananda Paramahansadev :

অখণ্ডমন্ডলেশ্বর শ্রীশ্রী স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংসদেব – এই কর্মযোগী মহামনীষীর শুভ আবির্ভাব ২৮ শে ডিসেম্বর১৮৮৬,মঙ্গলবার প্রভাতে বাংলাদেশের চাঁদপুর শহরের এক সাধক পরিবারে। তাঁর নাম ছিলো-বঙ্কিমচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়। পিতার নাম-সতীশচন্দ । সতীশচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায় মাতার নাম-মমতাময়ী দেবী। পিতামহ-হরিহর গঙ্গোপাধ্যায়।

তিনি ভারতের হরিদ্বারে মহামন্ডলেশ্বর স্বামী জয়েন্দ্রপুরীর শিষ্যত্ব গ্রহণের পর গুরু কর্তৃক” অখণ্ডমন্ডলেশ্বর “উপাধীতে ভূষিত হন। স্বামী স্বরূপানন্দ ছিলেন পরমহংস সন্ন্যাসী। রাজহংস যেমন করে দুধ ও জলের মিশ্রণ হতে শুধু দুধটুকু শুষে নিতে পারে তেমনি করে জগতে থেকে নিত্য ব্রক্ষ ও অনিত্য সংসারের মিশ্রণ থেকে শুধু সারবস্তু “ব্রক্ষ”কে যিনি গ্রহণ করেন তিনিই পরমহংস।

স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংসদেব কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের নন। তিনি বলেছেন, “জগতের সকল সম্প্রদায় আমার, আমি জগতের সকল সম্প্রদায়ের।” এক অভ্যন্নত মানবজাতি সৃষ্টি র লক্ষ্য ছিলো তাঁর কর্ম-সাধনা। লক্ষ লক্ষ পত্র লিখে অগণিত বালক-বালিকা, কিশোর-কিশোরী যুবক-যুবতীর সমস্যা সমাধানের পথ নিদের্শ করেছেন। সেসব পত্রের সমন্বয়ে গঠিত “ধৃতং প্রেম্না”(৩৮টি খন্ড) “কুমারীর প্রবিত্রতা”(৬টি খন্ড)। চরিত্র-গঠন, ব্রক্ষচর্য ইত্যাদি বিষয়ে অনেক মূল্যবান উপদেশ প্রদান করেছেন। লিখে গেছেন অমূল্য কিছু গ্ৰন্থ।

সেগুলো হলোঃ জীবনের প্রথম প্রভাত, সংযম-সাধনা, সরল ব্রক্ষচর্য, অসংযমের মূলোচ্ছেদ, আত্ম-গঠন দিনলিপি, আদর্শ ছাত্রজীবন, স্ত্রী-জাতিতে মাতৃভাব। বালক, কিশোর, যুবকদের চরিত্রগঠনের জন্য গ্ৰন্থ গুলো অতুলনীয়।

Read More

কুমারীদের পবিত্রতা রক্ষা ও চরিত্র গঠনের জন্য রয়েছে, “কুমারীর প্রবিত্রতা”। নারীদের জন্য আরো লিখে গেছেন: নবযুগের নারী, সধবার সংযম, বিধবার জীবন-যজ্ঞ। বিবাহিতদের জন্য রয়েছে:বিবাহিতের ব্রক্ষচর্য, বিবাহিতের জীবন সাধনা।


সকল বয়সের সকল স্তরের মানুষকে সাহসী, বীর, সৎ, পবিত্র,উন্নত, নিষ্কলঙ্ক, সুন্দর ও সাধক করে তোলার জন্য তিনি আরো অনেক গ্ৰন্থ লিখে গেছেন। সেই গুলো হলো:অখন্ড সংহিতা (২৪টি খন্ড), কর্মের পথে, পথের সাথী, পথের সন্ধান, পথের সঞ্চয়, সাধন পথে, কর্ম্মাভেরী, আপনার জন, নববর্ষের বাণী, বন-পাহাড়ের চিঠি। এছাড়াও তিনি রচনা করেছেন বহু সংগীত। জগৎ কল্যানই ছিলো স্বামীজির ব্রত। তাইতো তিনি সকলকে এই সঙ্কল্পের উপদেশ দিয়েছেন,”ওঁ জগন্মঙ্গলোহহং ভবামি” অথাৎ আমি জগতের মঙ্গলকারী হচ্ছি।


২১শে এপ্রিল ১৯৮৪,শনিবার প্রাতে ভারতের কলকাতায় এ অভিক্ষু সন্ন্যাসী স্বরূপ পরিগ্ৰহ করেন।


তাঁর লক্ষ লক্ষ বাণী মানুষকে প্রেরণা দেয়, মনে শক্তি দেয়, সাহস দেয়, পবিত্রতা দেয়, সফলতা লাভের আলো দেখায়। সেই অমূল্য বাণী গুলোর মধ্যে কয়েকটি হলো:


“পরমেশ্বর যে শুভ সম্ভাবনা সমূহ দিয়ে তোমাকে, আমাকে, সকলকে সৃষ্টি করেছেন তাকে পূর্ন বিকাশ দেবার জন্য যে সজাগ, সচেতন প্রয়াস তারই নাম চরিত্রগঠন। এই কাজ আমাদের আজীবন করতে হবে।”


“অহঙ্কৃত হয়ে তুমি নিজেকে যত শক্তিমান মনে কর, তুমি তত শক্তিমান নও, এই হলো তোমার ক্ষমতার সীমা। আবার হতাশ- নিরাশ হয়ে মানসিক দুর্বলতার প্রভাবে তুমি তোমাকে যত অক্ষম, যত ক্ষীণবীর্য মনে কর, তুমি তত অক্ষম ও ক্ষীণবীর্য নাও এই হল তোমার ক্ষমতার বিশেষত্ব। ভগবানের কাছে বিপদকালে তুমি যে সাহায্য প্রার্থনা কর, সেই সাহায্য লাভের অধিকাংশ শক্তি তিনি জন্ম থেকেই তোমার ভান্ডারে দিয়ে রেখেছেন। এ কথা বিশ্বাস করার নামই আত্মবিশ্বাস।”


“নিজের পিপাসাকে কমিয়ে এনে বিশ্বের ক্ষুধা মিটাবার জন্য যে নিজেকে দেয় অনায়াসে বলি, সেই প্রকৃত ব্রহ্মচারী।”


“কোনো অবস্থাতেই বিচলিত হইবে না। সর্বশক্তি দিয়ে তুমি তোমার বিশ্বাসের ভিত্তিকে সুদৃঢ় কর। যে যত বিশ্বাসী, সে তত সবল। বিশ্বাসীর হতাশা নাই।”


“সত্যের পরাজয় নাই। সত্যে অবিচলিত হও। সত্যকে জানো প্রাণের পরম ধন, সত্য কে জানো তোমার অখন্ড স্বরূপ, সত্যকে জানো শ্রেষ্ঠ কীর্তি ও চরম আশ্রয়।”


“তোমাকে টানিয়া তুলবার ক্ষমতা আমার থাকুক আর না থাকুক আমাকে ধরিয়া উঠিবার ক্ষমতা তোমার যথেষ্ট আছে।”